Blog

Blog

Blog

ডেঙ্গুতে মরছে মানুষ, দায়ী কে?

পৃথিবীতে যেসব প্রাণির কারণে মানুষের প্রাণহানি ঘটে সেসব তার একটি তালিকা এই লেখার সাথে সংযুক্ত করেছি। সেটা পড়ে থাকলে ইতোমধ্যেই জেনেছেন সম্মিলিত গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় মশার কামড়ে প্রতিবছর ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কীটতত্ত্ববীদদের গবেষণায় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ৩,৫০০ এর বেশি প্রজাতির মশা সনাক্ত করা গেছে। মশা ক্রেন মাছি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ প্রজাতির স্ত্রী মশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে থাকে। এদের মধ্যে কিছু মশা রোগজীবাণু সংক্রামক (অ্যানোফিলিস, কিউলেক্স, এডিস, হেমাগোগাস প্রভৃতি)। এসব মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ফাইলেরিয়া, পীতজ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে।

বর্তমানে পুরো এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিস প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি)-প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনামে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি, অর্থ্যাৎ ২৫০ কোটি মানুষ এখন ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে।

মশাবাহিত রোগগুলো শত বছর আগে থেকেই ছিলো! কিন্তু এর প্রকোপ কখনোই এত বেশী ছিলনা। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মানুষের প্রকৃতি বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃতি ও প্রাণীকূল বিনষ্ট অন্যতম কারণ বলছেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার প্রজননের জন্য মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং ২৭-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই যথেষ্ট। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশেগুলোতে। সেই উষ্ণতায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডেঙ্গুরবাহক এডিস মশাও। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে! প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা!

এই যে মশার কারণে এখন এত মানুষ মারা যাচ্ছে এর জন্য দায়ী কিন্তু মানুষই! কারণ মানুষ নিজের জন্য বন কেটে উজার করছে, ফসলের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করছে, ডিডিটি নামের বিষ ব্যবহার করার ফলে মশা শিকারি ব্যাকটেরিয়া, কীট এবং প্রাণিও কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগে মশার লার্ভার অধিকাংশই ব্যাঙ ও ব্যাঙাচি খেয়ে ফেলত আর এখনতো প্রকৃতিতে আমাদের কারণে এসব প্রাণি বিলীন হয়ে যাচ্ছে! এছাড়া মানুষের কেবল প্লাস্টিকজাত দূষণের কারনেই পৃথিবীতে আর কত প্রজাতির প্রাণি টিকে থাকবে সেটা নিয়েই শংকার শেষ নাই। ইতোমধ্যেই কতশত প্রজাতির প্রাণি হারিয়ে গেছে তার ইয়াত্তা নেই।

বাংলাদেশে আবহাওয়ার প্যাটার্নের পরিবর্তনে বাড়ছে ভেক্টরজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে (মশা: ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস। মাছি: উদরাময়, আমাশয়, ক্রিমি সংক্রমণ, কালাজ্বর, চ্যাগাস ডিজিস, স্লিপিং সিকনেস, চোখের কৃমি)। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সামনের দিনে আরও ভয়াবহ বিপদ আসবে! ভাইরাসগুলো মিউটেশনের মাধ্যমে নিজেদেরকে পরিবর্তন করছে, প্রতিরক্ষা বাড়াচ্ছে, ঔষধের বিরুদ্ধে অপরাজেয় হচ্ছে। তাই এখনই ছোঁয়াচে মহামারী প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

পৃথিবীর সব প্রাণিই তাদের প্রজাতি রক্ষার জন্য যেখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। সেখানে মানুষ নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে প্রতিনিয়ত। এইসব বিপদ থেকে বাঁচার জন্য প্রতিটি মানুষকে সচেতন ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কোন বিকল্প নেই। মানুষকে অবশ্যই নিজেদের আচরণগত ও ব্যবহারগত পরিবর্তন আনতে হবে। মানুষকে তার নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থেই পৃথিবীর সকল প্রাণিকে রক্ষা করতে হবে। পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে এমন সকল ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখতে যা কিছু করা দরকার করতে হবে। অন্যথায় এই পৃথিবী ধ্বংস হবে আপনার চোখের সামনেই।